সাকার ফাঁসি কবে
|
পেরোতে হবে আরও তিন ধাপ-পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, রিভিউ
নিষ্পত্তি ও প্রাণভিক্ষা প্রক্রিয়া
|
একাত্তরে
মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর
ফাঁসি কবে? ফাঁসিতে কবে ঝুলবেন এই বিএনপি নেতা। এ জন্য আর কত দিন অপেক্ষা করতে
হবে? ২৯ জুলাই আপিল বিভাগে ফাঁসির আদেশ বহাল থাকার পর সবার মনে এখন এই জিজ্ঞাসা।
সবার প্রশ্ন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাকা চৌধুরীর রায় কার্যকরের আইনি
প্রক্রিয়া কি আছে আর? তবে আইনজীবীরা বলছেন, সব কিছু ঠিক থাকলে, তাকে ফাঁসিতে
ঝোলাতে আরও কিছু আইনি প্রক্রিয়া অতিক্রম করতে হবে। এগুলো হচ্ছে- আপিল বিভাগের
পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি ও রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া
প্রসঙ্গ। ২৯ জুলাই আপিল বিভাগ এ মামলায় আপিলের সংক্ষিপ্ত রায় দেন। তাতে সাকা
চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। একাত্তরে কুণ্ডেশ্বরী
ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা নূতন চন্দ্র সিংহকে হত্যা, সুলতানপুরে গণহত্যা, ঊনসত্তরপাড়ায়
গণহত্যা, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মোজাফফর আহমদ ও তার ছেলে শেখ আলমগীরকে হত্যার দায়ে
সাকা আপিল বিভাগেও মৃত্যুদণ্ড পান। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে সাকা চৌধুরীর
আপিলের বিষয়ে বুধবার আপিল বিভাগের মতামত জানা গেলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে
মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এরই মধ্যে আসামিপক্ষ রায় রিভিউ বা
পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে বলে জানিয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে
আপিল বিভাগে এই আবেদন করতে হবে আসামিপক্ষকে। পুনর্বিচেনার আবেদনের নিষ্পত্তি না
হওয়া পর্যন্ত ফাঁসি কার্যকর করা যাবে না। মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আপিল বিভাগের
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আপিল বিভাগে রিভিউয়ের শুনানি ও নিষ্পত্তি
হবে। তবে রিভিউ আবেদন কখনই আপিলের সমতুল্য নয় বলে জানিয়েছেন আদালত। এ মামলায় আপিল
বিভাগের রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, এ মামলায় আপিলের পূর্ণাঙ্গ
রায় প্রকাশের পর রিভিউ আবেদন করা যাবে। পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়া পর্যন্ত ফাঁসি
কার্যকরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সাকার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন রায়ের পর
সাংবাদিকদের বলেছেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা রিভিউ আবেদন করবেন। মানবতাবিরোধী অপরাধ
মামলায় ২৩ অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে সাকার বিচার হয়। এর মধ্যে প্রমাণিত নয়টি অভিযোগে
মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে তাকে দণ্ড দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত নয়টি
অভিযোগের মধ্যে আপিল বিভাগে আটটি প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে তৃতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও
অষ্টম অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড; দ্বিতীয় ও চতুর্থ অভিযোগে ২০ বছর করে এবং সপ্তদশ ও
অষ্টাদশ অভিযোগে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। সপ্তম অভিযোগে
সাকা চৌধুরী আপিল বিভাগে খালাস পান। এই অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল তাকে ২০ বছরের
কারাদণ্ড দেন।
Tag :
যুদ্ধাপরাধ



0 Komentar untuk "সাকার ফাঁসি কবে"