বাংলার মুক্তকন্ঠ; মুক্তচিন্তা হোক মঙ্গলের, সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত।

১১১ ছিটমহলে বাংলাদেশের পতাকা উড়বে কাল

১১১ ছিটমহলে বাংলাদেশের পতাকা উড়বে কাল
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত। সরাসরি পড়তে এখানে ক্লিক করুন।


বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত স্থল সীমানা চুক্তি ও ২০১১ সালের প্রটোকল অনুসরণের মাধ্যমে উভয় দেশের স্থল সীমানা চুক্তি চূড়ান্ত বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। আজ মধ্য রাতের পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতের ১১১ ছিটমহল বাংলাদেশের ভূখণ্ড হয়ে যাবে। শনিবার ভোরে এসব ভূখণ্ডে উড়বে বাংলাদেশের পতাকা। একইভাবে ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১ ছিটমহলও আজ শুক্রবার মধ্যরাতের পর ভারতের হয়ে যাবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মধ্যে চলে আসবে ১৭ হাজার ১৬০ একর জমি এবং ভারতের মধ্যে চলে যাবে ৭ হাজার ১১০ একর জমি। পাশাপাশি এ সময় উভয় দেশের অপদখলীয় জমি সে দেশের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। অপদখলীয় জমির মধ্যে মেঘালয়, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অধীন সীমান্তে ২ হাজার একর জমি এবং আসামের ২৬৮ একর জমির মালিক হবে বাংলাদেশ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল জানানো হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থল সীমানা সংক্রান্ত সমস্যাসমূহ সমাধানকল্পে ১৬ মে ১৯৭৪ তারিখে স্বাক্ষরিত ল্যান্ড বাউন্ডারি অ্যাগ্রিমেন্ট-১৯৭৪ (মুজিব-ইন্দিরা) চুক্তি এবং পরবর্তীতে ২০১১ সালে স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রটোকলের আলোকে ৩১ জুলাই ২০১৫ মধ্য রাতে ভূমি বিনিময় সম্পন্ন বলে গণ্য হবে। বাংলাদেশে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত জমি সংযুক্ত করে এবং বহির্ভূত জমি বাদ দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে গেজেট নোটিফিকেশন জারি করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ভূখণ্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ১১১টি ছিটমহলে বসবাসরতদের মধ্যে যারা ভারতীয় নাগরিক হিসেবে থাকতে চেয়েছেন তারা ছাড়া অন্য সব বাসিন্দাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে। একইভাবে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ৩১ জুলাই ২০১৫ মধ্য রাত থেকে ভারতীয় ভূখণ্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং এদের নাগরিকরা ভারতীয় নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবেন। ১ আগস্ট ২০১৫ অর্থাৎ শনিবার ভোরে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত ভারতের পূর্ববর্তী ১১১টি ছিটমহলে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। একইভাবে ভারতের কোচবিহারের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একই তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, ৩১ জুলাই মধ্যরাত থেকে ভারতের অভ্যন্তরে থাকা ৫১টি বাংলাদেশি ছিটমহল ভারতের ভূখণ্ড বলে চিহ্নিত হবে।

২০১১ সালের জরিপের বাইরে যারা জুলাইয়ে যৌথ জরিপে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বহাল রেখে সেদেশে চলে যেতে চান বলে জানিয়েছেন সে সুযোগ পাবেন। ১ আগস্ট থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তারা বাংলাদেশে চলে যেতে পারবেন টাকা-পয়সা বা অন্যান্য অস্থাবর সম্পত্তিসহ।জানা যায়, ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে ৬৮ বছর ধরে আটকে থাকা জঞ্জাল দূর হচ্ছে। যদিও ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর থেকেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থলসীমান্ত সমস্যার সমন্বিত সমাধানে পৌঁছার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৫৮ সালের নেহরু-নুন চুক্তি এবং ১৯৭৪ সালে মুজিব-ইন্দিরা স্থলসীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে সীমানা জটিলতার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ওই দুই চুক্তিতে প্রায় ৬.১ কিলোমিটার অচিহ্নিত সীমান্ত, ছিটমহল বিনিময় ও অপদখলীয় ভূমির বিষয়ে কোনো সমাধান ছিল না। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৭৪ সালের স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা সফরে এসে প্রটোকলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। বাংলাদেশ ওই চুক্তিতে অনুসমর্থন দিলেও জমি হস্তান্তরে ভারতের সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন হওয়ায় বিষয়টি আটকে থাকে। ভারতের বিগত কংগ্রেস সরকার কয়েক দফা উদ্যোগ নিয়েও বিজেপি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতায় রাজ্যসভা ও লোকসভায় তা পাস করাতে ব্যর্থ হয়। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের অংশ হিসেবে সমস্যাটি সমাধানের উদ্যোগ নেন। শুরু থেকে আপত্তি করে আসা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতাও নানা চাপের মধ্যে শেষ পর্যন্ত সম্মতি দেন। পরে গত ৬ মে ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা স্থলসীমান্ত বিলটি (১১৯তম সাংবিধানিক সংশোধনী) পাস হয়। ঢাকা সফরে আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত ৬ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে স্থলসীমান্ত চুক্তি প্রটোকল সই হয়। এরপর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর নিজ নিজ দেশের পক্ষে এসব দলিল হস্তান্তর করেন। এ সময় ওই চুক্তি বাস্তবায়নের কার্যপদ্ধতি সংবলিত পত্রও বিনিময় করা হয়। সেই হিসেবেই বাস্তবায়ন হচ্ছে সীমান্ত চুক্তি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকাশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত স্থলসীমান্ত চুক্তি ও এর প্রটোকল বাস্তবায়িত হলে কয়েক দশকের পুরনো সীমান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হওয়ার পাশাপাশি সীমান্তে আসবে শান্তি। ছিটমহলের বাসিন্দাদের গত সাত দশকের মানবিক সংকটের অবসান ঘটবে। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে পূর্ণ অধিকার বাস্তবায়নের সুযোগ হবে তাদের। একই সঙ্গে খুলবে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত।
0 Komentar untuk "১১১ ছিটমহলে বাংলাদেশের পতাকা উড়বে কাল"

KANGLA ONLINE

Copy Protected by Surozeet Kumar Singha.

ONLINE RADIO 1

FM Radio of Bangladesh

RADIO 3

RADIO 4

BREAKING NEWS

Back To Top