সোহাগপুরে স্বস্তি
শেরপুর প্রতিনিধি
দীর্ঘ ৪৪ বছর পর
স্বস্তি ফিরেছে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সোহাগপুর গ্রামে। এই গ্রামেই ১৯৭১
সালে আলবদর নেতা কামারুজ্জামানের নেতৃত্বে হত্যা করা হয়েছিল ১২০ জন পুরুষকে। বিধবা
করা হয়েছিল তাদের পরিবারকে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেই অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির
রায় পেয়ে বেঁচে থাকা পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে প্রত্যাশার স্বস্তি। সোহাগপুর
বিধবাপল্লিতে বসবাস করা একাত্তরে স্বামী হারানো জবেদা বেওয়া, অজুফা ও করিমন বলেন, ‘রায়ে আমরা আমাদের স্বামী হত্যার বিচার
পেয়েছি’।
কামারুজ্জামানের মামলায়
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী মজিবর রহমান খান পানু বলেন, আজ থেকে আমরা কলঙ্কমুক্ত হলাম।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নূরল ইসলাম হিরু বলেন, কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড
আপিল বিভাগ বহাল রাখায় আমরা আদালতের প্রতি খুশি। ফাঁসির রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে
এলাকার একজন কুখ্যাত রাজাকারের পরিসমাপ্তি ঘটবে। ডেপুটি কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন
বলেন, রায়ে আমরা দারুণ খুশি। মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট প্রদীপ দে কৃষ্ণ বলেন, জীবিত
অবস্থায় সব যুদ্ধাপরাধীর শাস্তি দেখে যেতে চাই। শেরপুর সদর উপজেলা
চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ছানুয়ার হোসেন ছানু বলেন, কুখ্যাত এই রাজাকারের
মৃত্যুদণ্ডাদেশ আপিল বিভাগে বহাল থাকায় এখানকার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আরও
উজ্জীবিত হবে। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, ’৭১-এর কৃতকর্মের সঠিক বিচার হয়েছে। আমরা
মহাআনন্দিত। এদিকে গত কয়েকদিন ধরে শেরপুরের কোথাও জামায়াতের কোনো নেতা-কর্মীকে
সশরীরে দেখা যায়নি। মোবাইলেও তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। কামারুজ্জামানের পারিবারিক
একটি সূত্র জানিয়েছে, কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হলে তার জানাজা হবে নিজ
গ্রামে ও দাফন করা হবে পারিবারিক কবরস্থানে। পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম জানিয়েছেন,
এ রায়ের খবরে শান্তি শৃঙ্খলায় যেন বিঘ্ন না ঘটে তার জন্য কামারুজ্জামানের বাড়ি
বাজিতখিলা এলাকা ও জেলার সর্বত্র নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অপ্রীতিকর
কোনো ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র পুলিশ-র্যাব ব্যবস্থা নেবে।
-
See more at:
http://www.bd-pratidin.com/first-page/2015/04/07/73373#sthash.rkqxWyvz.dpuf
Tag :
যুদ্ধাপরাধ



0 Komentar untuk "সোহাগপুরে স্বস্তি"