রাতারাতি
ফেভারিট মাশরাফিরা
সঞ্জয়
সাহা পিয়াল, অ্যাডিলেড থেকে
ব্র্যাডম্যান
এভিনিউ_ রাস্তাটি পেছনে ফেলেই এগিয়ে গেল টিম বাসটি। পেছনে রয়ে গেল সুখমাখা অনেক
স্মৃতি। অ্যাডিলেড ওভালের সেই রাত, এই শহরে আর কবে আসা হবে_ কে জানে। তাই যাওয়ার
আগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে কাছের স্টেডিয়ামের ছবি তুলে রাখলেন আরাফাত
সানি। মাশরাফিও বলে রাখলেন, আবার কখনও এই শহরে এলে একবার ঘুরে যাবেন মাঠটিতে। একটি
জয় গোটা আবহ যে কতটা বদলে দিতে পারে, তা বেশ টের পেয়েছেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা।
অ্যাডিলেডের দৈনিকগুলোতে বড় করে ছবি ছাপা হয়েছে তাসকিনদের, রেডিও জকির মুখে
বাংলাদেশিদের ভূয়সী প্রশংসা। 'সত্যিই, অনেক কিছু পেয়েছি আমরা এই শহর থেকে। এত বড়
মাঠে এর আগে কখনোই এমন জয় পাইনি আমরা। আজীবন মনে থাকবে এই দিনটি।' হোটেল থেকে
বিমানবন্দরে যাওয়ার তাড়ার মধ্যেও মনের কথাগুলো বলে নেন সাবি্বর রহমান রুম্মান।
এদিন
একই হোটেল থেকে বাংলাদেশ দল রওনা দিয়েছে নিউজিল্যান্ডের হ্যামিলটনে। একটু পরে
ইংল্যান্ড দলও বেরিয়ে যায় সেখান থেকে। ব্রিটিশ সাংবাদিকরা আগের দিন যেখানে
মাশরাফির সংবাদ সম্মেলনেই ছিলেন না, এদিন হোটেলের সামনে ভারী ক্যামেরা নিয়ে
দাঁড়িয়ে ছিল ইংলিশ টিভি চ্যানেল। রুবেলের সাক্ষাৎকারও নিয়েছে তারা। আসলে
ইংল্যান্ডকে হারানোর পর রাতারাতি ফেভারিট হয়ে গেছেন মাশরাফিরা। অস্ট্রেলিয়ানরা
এমনিতে নিজেদের খেলা না থাকলে টেলিভিশনে ক্রিকেট খেলা দেখে না। তবে ইংল্যান্ডের
বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটি তারা দেখেছিল অনেক আনন্দ নিয়েই, যার প্রমাণ পাওয়া গেল
গতকাল সারাদিন অ্যাডিলেড শহরে। বাংলাদেশি সাংবাদিক পরিচয় পেলেই অসিরা হাত বাড়িয়ে
বলছে, 'তোমাদের দল দারুণ খেলেছে। দেখো, সেমিফাইনালেও যাবে তোমরা।' কোয়ার্টার
ফাইনালে এখন পর্যন্ত ভারতের সঙ্গেই ম্যাচ হওয়ার
সম্ভাবনা
বেশি এবং সেটা মেলবোর্নেই। কারণ, ইংল্যান্ড কোয়ার্টারের জন্য পছন্দ করে রেখেছিল
মেলবোর্নকে। তার জায়গাতেই খেলতে হবে এবার বাংলাদেশকে। সেই মেলবোর্ন, যেখানে
শ্রীলংকার বিপক্ষে হেরেছিল বাংলাদেশ। অনেকটা আক্ষেপ নিয়ে মাশরাফি তখন বলেছিলেন,
'এই মেলবোর্নকে আমি কত কিছু দিলাম_ অস্ত্রোপচার, রক্ত, অর্থ। অথচ মেলবোর্ন আমাকে
কিছুই দিল না...।' সাংবাদিকদের সঙ্গে গল্পচ্ছলে একদিন এ কথাগুলো বলেছিলেন তিনি।
সেই মেলবোর্নেই ফের কোয়ার্টার ফাইনালে নামতে যাচ্ছেন মাশরাফি। এবার কি মেলবোর্ন
তাকে দুই হাত খুলে দেবে, যা দিয়েছে অ্যাডিলেড! হাঁটুর ব্যথা নিয়েই অ্যাডিলেডে
খেলতে নেমেছিলেন মাশরাফি। শরীরের অনেক যন্ত্রণা লুকিয়ে রেখে মুখে হাসি রেখেছিলেন।
তবে এবার বোধ হয় তার কিছুদিন বিশ্রাম নিতে হবে। ১৩ মার্চ হ্যামিলটনে
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নাও খেলতে পারেন তিনি। চিকিৎসকের পরামর্শ, চার-পাঁচ দিনের
বিশ্রামে তার কাফ মাসলের ব্যথা অনেকটাই সেরে যাবে। বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে
দেখছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তাই নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মাশরাফির বদলে দলকে নেতৃত্ব
দিতে দেখা যেতে পারে সাকিবকে। আর একাদশে সুযোগ পেতে পারেন পেসার শফিউল।
এদিন
অ্যাডিলেড থেকে অকল্যান্ডে পেঁৗছেছে বাংলাদেশ দল। রাতটা নিউজিল্যান্ডের ওই শহরে
কাটিয়ে আজ বাসে চড়ে হ্যামিলটন যাওয়ার কথা তাদের। কোচ হাথুরুসিংহে চাইছেন,
হ্যামিলটন পেঁৗছেই ছেলেদের নিয়ে অনুশীলনে নামতে। তবে অকল্যান্ড থেকে যেতে যেতে যদি
বিকেল হয়ে যায়, তাহলে সেটা সম্ভব হবে না। ইংল্যান্ডকে হারানোর পর দলের মধ্যে থাকা
আত্মবিশ্বাস কিছুতেই খর্ব হতে দিতে চান না কোচ। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে অনেকটা তার
জেদেই চার নম্বরে নামানো হয়েছিল। সেঞ্চুরির পর তাই কোচের প্রতি নিজের কৃতজ্ঞতা
জানাতে ভোলেননি রিয়াদ। যেমনটি ভোলেননি অ্যাডিলেড ওভালকে তার প্রিয় মাঠের স্বীকৃতি
দিতে, 'আমার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে কখনও নব্বইয়ের ঘরেই যেতে পারিনি, সেখানে
বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি পেলাম! কী করে ভুলি এই মাঠকে...।' রিয়াদের কথা শুনতে শুনতে মনে
হচ্ছিল, অ্যাডিলেড ওভালের নিচতলায় বড় করে লেখা ব্র্যাডম্যানের সেই বিখ্যাত
উক্তিটি_ 'আই ওয়াজ নেভার কোচড, আই ওয়াজ নেভার টোল্ড হাউ টু হোল্ড এ ব্যাট...'।
সবকিছুই বুঝি ধরাবাঁধা ব্যাকরণে সব সময় হয় না, কখনও কখনও তার বাইরেও অনেক
সৃষ্টিশীলতা ধরা পড়ে।
- See
more at: http://www.samakal.net/2015/03/11/123918#sthash.yXFxV6ZG.dpuf
Tag :
খেলা



0 Komentar untuk "রাতারাতি ফেভারিট মাশরাফিরা"