হালদায় অপেক্ষা ডিম উৎসবের
নিজস্ব
প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রাকৃতিক
মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর পাড়ে এখন সাজ সাজ রব। জেলেরা জাল, নৌকা, রেণু
তৈরির কুয়াসহ নানা সরঞ্জাম নিয়ে অপেক্ষা করছেন। মেঘের গর্জন, ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি
ঢল নামলেই তারা মেতে উঠবেন ‘ডিম সংগ্রহের মহাউৎসবে’।
সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রবল বর্ষণ আর মেঘের গর্জনের সঙ্গে পাহাড়ি ঢল
নামলে হালদা নদীতে রুই জাতীয় মা মাছ ডিম ছাড়া শুরু করবে। জেলেরা এখন মেঘের গর্জন ও
বৃষ্টির অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা নদীর সর্তারঘাট থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত প্রায় ২০
কিলোমিটার এলাকায় অবস্থান করছেন। এ ছাড়াও পাঁচ শতাধিক নৌকা নিয়ে হালদার
অংকুরিঘোনা, গড়দুয়ারা, নাপিতেরঘাট, পোড়ালিয়া স্লুইস গেট, আমতোয়া, মধ্যম মাদার্শা,
মদুনাঘাট, আজিমেরঘাট, কাগতিয়া, আবুরখীল, সিপাহীরঘাটসহ বিভিন্ন স্পটে ডিম
সংগ্রহকারীরা অপেক্ষা করছেন। ডিম সংগ্রহকারী কামাল সওদাগর বলেন, ‘ডিম
সংগ্রহের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এবার সাতটি নৌকা নিয়ে ডিম সংগ্রহ করব। এ
জন্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক ও
হালদা বিশেষজ্ঞ মনজুরুল কিবরিয়া জানান, ডিম সংগ্রহ করতে হালদা নদীর দুই পাড়ের
জেলেরা সব প্রস্তুতি নিয়েছেন। অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলেই কার্প জাতীয় মা মাছ ডিম
ছাড়বে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রভাতি দে বলেন, আধুনিক উপায়ে ডিম সংগ্রহ করতে ডিম
সংগ্রহকারীদের যাবতীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ডিম থেকে রেণু তৈরি করতে সরকারি সাত
হ্যাচারিকে পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনা ছাড়াও হালদার দুই
তীরে ডিম সংগ্রহকারীরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কুয়া পদ্ধতিতে ডিম থেকে রেণু তৈরি করবেন।
প্রসঙ্গত,
হালদা বিশ্বের একমাত্র জোয়ারভাটার নদী, যেখান থেকে সরাসরি রুই জাতীয় কার্প মাছের
ডিম সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে হালদা প্রতি বছর জাতীয় অর্থনীতিতে প্রায় ৮০০ কোটি
টাকা যোগ করছে।
- See more at:
http://www.bd-pratidin.com/last-page/2015/04/08/73599#sthash.sKMdSkJv.dpuf
Tag :
বিবিধ



0 Komentar untuk "হালদায় অপেক্ষা ডিম উৎসবের"