ডায়াবেটিস
এবং যক্ষ্মা দুজনে দুজনার!
যেহেতু যক্ষ্মা একটি জীবাণুঘটিত রোগ, তাই যে সব রোগে বা কারণে
শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ওইসব রোগীর যক্ষ্মা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে
যায়। আমাদের দেশে এখনো এই রোগের ব্যাপকতা এত বেশি নয়। কিন্তু একটি বিশাল জনগোষ্ঠী
ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। আর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার অন্যতম একটি
কারণ হলো ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ। ডায়াবেটিস রোগী যক্ষ্মা আক্রান্ত হলে অনেক
ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় করতে যথেষ্ট দেরি হয়ে যায় কারণ ডায়াবেটিস রোগীদের
যক্ষ্মারোগের লক্ষণ সাধারণ যক্ষ্মারোগীদের মতো নাও হতে পারে। যদিও যক্ষ্মারোগে
প্রধানত ফুসফুস আক্রান্ত হয়ে থাকে কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে ফুসফুসবহির্ভূত
যক্ষ্মা আক্রান্তের হার অনেক বেশি। যদি কোনো ডায়াবেটিস রোগী দুই সপ্তাহের বেশি
কাশিতে ভোগে এবং এর সঙ্গে জ্বর থাকতে পারে না, থাকতে পারে ফুসফুসের যক্ষ্মার
ক্ষেত্রে। বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের পরও অবস্থার উন্নতি না হয়, তখন
যক্ষ্মারোগের বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।
যক্ষ্মারোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রোগীদের বেলায় অতিরিক্ত
সাবধানতার দরকার হয়। সঠিক নিয়মে পূর্ণমাত্রায় ওষুধ সেবন করলে ডায়াবেটিস রোগীদের
বেলায়ও যক্ষ্মারোগের ওষুধ সমানভাবে কার্যকর। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করা
নিয়ন্ত্রণ খুবই জরুরি। কারণ রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি হলে যক্ষ্মা বিভিন্ন অঙ্গে
ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং যক্ষ্মারোগের ওষুধ সঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে। সাধারণত
বেশিরভাগ যক্ষ্মারোগীর ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য ইনসুলিন প্রয়োজন হয়।
ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যার দ্বারা শরীরের বেশিরভাগ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত
হয়। আবার যক্ষ্মারোগও অনেক সময় শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। কোনো
ডায়াবেটিস রোগীর যক্ষ্মা হলে রোগের ব্যাপকতা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই দ্রুত
রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা প্রয়োজন।
ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক, এমএইচ শমরিতা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।
Tag :
স্বাস্থ্য



0 Komentar untuk "ডায়াবেটিস এবং যক্ষ্মা দুজনে দুজনার!"