কিডনি
রোগ প্রতিরোধে করণীয়
অধ্যাপক
ডা. শামীম আহমেদ
প্রতি
বছর মার্চ মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার বিশ্ব কিডনি দিবস উদযাপিত হয়। এবার ১২ মার্চ
বৃহস্পতিবার বিশ্বের প্রায় ১৫৭টি দেশে একযোগে এই দিবসটি উদযাপিত হয়েছে। ২০০৬ সালে
প্রথম বিশ্ব কিডনি দিবস পালন শুরু হয়। প্রতি বছর অধিকসংখ্যক মানুষ এই দিবসটিতে
অংশগ্রহণ করেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৪ সালে ৫৬০টি কিডনি দিবসের অনুষ্ঠান হয়।
দিনটি পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে-
১. জনগণের মধ্যে দুটি কিডনি কার্যক্ষমতা
সম্বন্ধে ধারণা দেওয়া, সুস্থ জীবনের জন্য কিডনির কি প্রয়োজনীয়তা ও সারা পৃথিবীতে
সব ধরনের কিডনি রোগের প্রভাব থেকে কিভাবে মানুষকে পরিত্রাণ দেওয়া যায় সে সম্বন্ধে
জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা।
২. উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস ধীরগতিতে কিডনি অকেজো
অন্যতম কারণ সেই সম্বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করা
৩. ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ রোগীদের
পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য উৎসাহিত করা
৪. কিভাবে কিডনি রোগের প্রতিরোধ করা যায়
সেই সম্বন্ধে জনগণের মধ্যে ধারণা দেওয়া
৫. কিডনি রোগের ঝুঁকিপূর্ণ জনগণকে শনাক্ত ও
প্রতিরোধ করার জন্য স্বাস্থ্যবিষয়ক ডাক্তার, সেবিকা ও অন্যান্য সম্পৃক্ত জনবলকে
আরও সতর্কতা অবলম্বন করা ইত্যাদি।
ধরে নেওয়া যায়, পৃথিবীর শতকরা ১০ ভাগ লোক কোনো
না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মনে করে এই কিডনি রোগের
সংখ্যা আগামী ১০ বছরের আগে ১৭ ভাগ বেড়ে যাবে। কাজেই কিডনি রোগ বিশ্বের স্বাস্থ্যের
জন্য অন্যতম সমস্যা। বিশ্ব কিডনি দিবসের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। কারণ বর্তমানে সারা
বিশ্বে কিডনি রোগ মহামারী হারে বেড়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত এই রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত
ব্যয়বহুল যা সাধারণ জনগণের আর্থিক সীমার বাইরে, তৃতীয়ত বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষের
কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করার ধারণা নেই। আপনি কি কোনো কিডনি রোগের
ঝুঁকিতে আছেন কিনা তা জানতে হলে দেখে নিন আপনি উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, শরীরের ওজন
বেশি কিনা অথবা আপনার পরিবারে কোনো কিডনি রোগ আছে কিনা এবং আপনার বয়স ৫০-এর উপরে কিনা?
নিম্নলিখিত তথ্যের ওপর গুরুত্ব দিলে, কিডনি রোগের ভয়াবহতা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া
যেতে পারে-
১। নিজেকে সচল ও কর্মঠ রাখুন,
২। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করুন,
৩।
উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুন,
৪। শরীরের ওজন আদর্শমাত্রায় রাখুন,
৫। ধূমপান পরিহার
করুন,
৬। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাবেন না,
৭। চর্বিজাতীয় খাবার পরিহার করুন
৮। টাটকা শাকসব্জি ও ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস করুন
৯। দৈহিক পরিশ্রম করুন,
১০। যারা
কিডনি রোগের ঝুঁকিতে আছেন তারা পরীক্ষা করে নিন।
লেখক
: প্রাক্তন পরিচালক ও অধ্যাপক, কিডনি বিভাগ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস,
ঢাকা।
- See more at:
http://www.bd-pratidin.com/health/2015/03/14/68444#sthash.tKPa5jcH.dpuf
Tag :
স্বাস্থ্য



0 Komentar untuk "কিডনি রোগ প্রতিরোধে করণীয়"