গর্ভেই শিশুর রোগ নির্ণয়
বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে সংগৃহিত
আমাদের শরীরে রোগবালাই নির্ণয়ের জন্য
চিকিৎসক রক্তের বিভিন্ন প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে থাকেন। মায়ের গর্ভে
বাচ্চাটিকেও তেমনি একটা রোগী হিসেবে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসাসেবা দেওয়ার প্রয়োজন
হয়। মায়ের গর্ভে বাচ্চা একটা ব্যাগভর্তি তরল পদার্থের মধ্যে অবস্থান করে। এই তরল
পদার্থকে অ্যামনিওটিক ফ্লুইড বলা হয়। এটি বাচ্চাকে যেমন পুষ্টি দেয় তেমনি বাচ্চাকে
বিনা আঘাতে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে। বাচ্চার গা থেকে লোম বা কোষকলা এই তরল
পদার্থের ভিতরেই খসে পড়ে। বাচ্চার গায়ে জন্মগত বা জেনেটিক রোগ আছে কিনা তা
নির্ণয়ের জন্য বাচ্চার ডিএনএ নমুনা প্রয়োজন হয়। এই ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য
মায়ের গর্ভে বাচ্চার চারপাশের তরল পদার্থ বের করে আনার পদ্ধতিকে অ্যামনিওসেনটেসিস
বলা হয়।
কিভাবে করা হয় : প্রথমে আল্ট্রাসনো
মেসিনের সাহায্যে জরায়ুর ভিতরে বাচ্চা ও গর্ভফুলের অবস্থান নির্ণয় করা হয়। স্থানীয়
চেতনানাশক স্প্রের সাহায্যে মায়ের পেটের চামড়ার কিছু অংশ অবশ করে নেওয়া হয়।
আল্ট্রাসনো মেসিনের চলমান ছবি দেখে অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি সুই বা নিডল বাচ্চার
চারপাশের তরল পদার্থের ব্যাগের ভিতরে প্রবেশ করানো হয়। এবার সিরিনজের সাহয্যে ১৫
থেকে ২০ মিলি তরল পদার্থ টেনে আনা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে ১০ থেকে ১৫
মিনিট সময় লাগে। এই তরল পদার্থ ল্যাবরেটরিতে প্রকার রোগ নির্ণয়ের জন্য পাঠানো হয়।
কখন করা হয় : মনে রাখবেন মায়ের পেটে বাচ্চার বয়স
যখন ১৫ থেকে ১৮ সপ্তাহ। আকার দেড় থেকে দুই ইঞ্চি।
কেন করা হয় : যদি কোনো পরিবারে বাচ্চার জেনেটিক বা
বংশগত রোগ যেমন থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়া, ডিএমডি ইত্যাদি থাকে বা স্বামী-স্ত্রী
যদি ওই সব রোগের বাহক হন। অধিক বয়সের গর্ভবতী বিশেষ করে পঁয়ত্রিষোর্ধ্ব বয়সের
গর্ভবতী মা যাদের ডাউন বেবি নামক প্রতিবন্ধী শিশু জন্মের সম্ভাবনা থাকে। এ ছাড়াও
গর্ভের বাচ্চার গায়ে ইনফেকশন, বাচ্চার রক্তের গ্রুপ নির্ণয়সহ প্রায় শতাধিক রোগ
নির্ণয়ের জন্য অ্যামনিওসেনটেসিস করা হয়।
ডা. রেজাউল করিম কাজল
সহযোগী অধ্যাপক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
-
See more at:
http://www.bd-pratidin.com/health/2015/03/10/67619#sthash.RcwQexi6.dpuf
Tag :
স্বাস্থ্য



0 Komentar untuk "গর্ভেই শিশুর রোগ নির্ণয়"