পলাতক ডাকাতরা ধরা পড়েনি এখনও
জঙ্গি যোগসূত্রের আরও তথ্য
সাহাদাত হোসেন পরশ
রাজধানীর অদূরে সাভারের
আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের শাখায় ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনায় পলাতক
ডাকাতরা এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। মূল হোতা বোরহান মৃধার মালিকানাধীন চারটি পিকআপ ও
একটি কাভার্ডভ্যান রয়েছে। ব্যাংক ডাকাতির পর হাতেনাতে বোরহান আটক হলেও রহস্যজনক
কারণে ওই পাঁচটি যানবাহনের চালক তাদের স্ত্রীসহ পালিয়েছে। এরই মধ্যে গাজীপুরের
কালিয়াকৈর এলাকায় বোরহানের মালিকানাধীন অন্তত তিনজন গাড়িচালকের বাসায় অভিযান
চালিয়ে জিহাদি বই উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে বোরহানের বাসায় অভিযান চালিয়ে একই
ধরনের বই পাওয়া যায়। এতে গোয়েন্দাদের ধারণা, গাড়িচালকরাও উগ্র মতাদর্শে বিশ্বাসী।
তাই বোরহানকে আটকের তথ্য পাওয়ার পর তারা গা-ঢাকা দিয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে পুলিশ
অনেকটাই নিশ্চিত যে, জঙ্গিরাই এই ব্যাংক ডাকাতিতে জড়িত। তাদের উদ্দেশ্য ছিল নাশকতা
চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা।
এদিকে, হাতেনাতে গ্রেফতার
আরেক ডাকাত সাইফুল মাসখানেক আগে টঙ্গীর এরশাদনগরে বাসা ভাড়া নিয়েছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেখানেই সহযোগীদের নিয়ে ব্যাংক ডাকাতির পরিকল্পনা করা
হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিচ্ছে। কখনও বলছে তার নাম
বাবু। গ্রামের বাড়ি নিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে সে। সর্বশেষ সে বলেছে, তার
গ্রামের বাড়ি কামরাঙ্গীরচরে। এর আগে বলেছে জয়পুরহাটে। তবে পুলিশ দুই জায়গায় খোঁজ
নিয়ে সাইফুলের ব্যাপারে কোনো তথ্য পায়নি।
আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজার এলাকায় অবস্থিত নাজিমউদ্দিন সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা গুলি, বোমা হামলা ও কুপিয়ে ব্যাংকের ম্যানেজার মো. ওয়ালিউল্লাহসহ সাতজনকে হত্যা করে। তাদের মধ্যে চারজন ডাকাতদের প্রতিহত করতে গিয়ে মারা যান। অন্য তিনজন নিহত হন ব্যাংকের ভেতরে। এক ডাকাত গণপিটুনিতে মারা যায়। এ ঘটনায় ডাকাতদের হামলায় গুরুতর
জখম হয়ে আরও ১৭ জন এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে অন্তত তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজার এলাকায় অবস্থিত নাজিমউদ্দিন সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা গুলি, বোমা হামলা ও কুপিয়ে ব্যাংকের ম্যানেজার মো. ওয়ালিউল্লাহসহ সাতজনকে হত্যা করে। তাদের মধ্যে চারজন ডাকাতদের প্রতিহত করতে গিয়ে মারা যান। অন্য তিনজন নিহত হন ব্যাংকের ভেতরে। এক ডাকাত গণপিটুনিতে মারা যায়। এ ঘটনায় ডাকাতদের হামলায় গুরুতর
জখম হয়ে আরও ১৭ জন এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে অন্তত তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র
জানায়, বোরহানের বাসায় অভিযান চালিয়ে উগ্রপন্থি জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা
টিমের তাত্তি্বক নেতা জসীমুদ্দিন রাহমানি, বর্ধমান বিস্ফোরণের সময় আলোচনায় আসা
উগ্রপন্থি নেতা আবু তাহের বর্ধমানির লেখা অনেক বই পাওয়া গেছে। গোয়েন্দাদের ধারণা,
ডাকাতদের সঙ্গে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম অথবা জামা'আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের
(জেএমবি) যোগসূত্র থাকতে পারে। অতীতে বোরহান সক্রিয়ভাবে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে
জড়িত থাকলেও পরে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়। এমনকি মতিঝিলে হেফাজতের তাণ্ডবের
সময় শাহবাগ থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল বোরহান।
দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের কাঠগড়া শাখার আটটি সিসিটিভির ফুটেজ গতকাল পরীক্ষা করা হয়েছে। দু'জন বিশেষজ্ঞ এসব ফুটেজ দেখে একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়, '১৮ মার্চ থেকে কাঠগড়া শাখায় সিসিটিভি কাজ করছিল না। তবে সেটা মনুষ্যসৃষ্ট সমস্যা নয়। কারিগরি ত্রুটির কারণে ডাটা রেকর্ড হয়নি।'
তদন্তসংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতার দুই ডাকাত অত্যন্ত শক্ত মানসিকতার। জিজ্ঞাসাবাদের সব পদ্ধতি প্রয়োগ করে এখনও তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য আদায় করা সম্ভব হয়নি। সে কারণে পলাতক ডাকাতদেরও ধরা সম্ভব হচ্ছে না।
বোরহান ও সাইফুলের সঙ্গে ডাকাতিতে সম্পৃক্ত অন্য কারও নাম-পরিচয় সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পুুলিশের কাছে নেই। সাইফুলের দাবি, পলাশ নামের এক ব্যক্তির নির্দেশে সে ডাকাতিতে অংশ নেয়। এক হাজার টাকার বিনিময়ে সে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। পলাশের বাড়ি উত্তরবঙ্গে। কীভাবে বোমা ও অস্ত্র তাদের হাতে এসেছে_ সে ব্যাপারে মুখ খুলছে না গ্রেফতার দু'জন। তবে একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দেওয়ায় সাইফুলের জবানবন্দির সত্যতা নিয়ে তদন্তসংশ্লিষ্টদের এখনও সন্দেহ রয়েছে।
দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ব্যাংক ডাকাতিতে জড়িতরা দুই ধরনের ক্ষুদ্রাস্ত্র ব্যবহার করেছে। তা হলো ৭.৬৫ ও পয়েন্ট টু টু বোরের পিস্তল। এ ছাড়া যে ধরনের বিস্ফোরক তারা ব্যবহার করে, তা বিভিন্ন সময় জেএমবি সদস্যদের আস্তানা থেকে পাওয়া যায়।
ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে গতকালও সকাল থেকে কাঠগড়া বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। কিছু দোকানপাট খুললেও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। এ ছাড়া দোকানে ক্রেতা ছিল না বললেই চলে।
দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের কাঠগড়া শাখার আটটি সিসিটিভির ফুটেজ গতকাল পরীক্ষা করা হয়েছে। দু'জন বিশেষজ্ঞ এসব ফুটেজ দেখে একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়, '১৮ মার্চ থেকে কাঠগড়া শাখায় সিসিটিভি কাজ করছিল না। তবে সেটা মনুষ্যসৃষ্ট সমস্যা নয়। কারিগরি ত্রুটির কারণে ডাটা রেকর্ড হয়নি।'
তদন্তসংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতার দুই ডাকাত অত্যন্ত শক্ত মানসিকতার। জিজ্ঞাসাবাদের সব পদ্ধতি প্রয়োগ করে এখনও তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য আদায় করা সম্ভব হয়নি। সে কারণে পলাতক ডাকাতদেরও ধরা সম্ভব হচ্ছে না।
বোরহান ও সাইফুলের সঙ্গে ডাকাতিতে সম্পৃক্ত অন্য কারও নাম-পরিচয় সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পুুলিশের কাছে নেই। সাইফুলের দাবি, পলাশ নামের এক ব্যক্তির নির্দেশে সে ডাকাতিতে অংশ নেয়। এক হাজার টাকার বিনিময়ে সে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। পলাশের বাড়ি উত্তরবঙ্গে। কীভাবে বোমা ও অস্ত্র তাদের হাতে এসেছে_ সে ব্যাপারে মুখ খুলছে না গ্রেফতার দু'জন। তবে একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দেওয়ায় সাইফুলের জবানবন্দির সত্যতা নিয়ে তদন্তসংশ্লিষ্টদের এখনও সন্দেহ রয়েছে।
দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ব্যাংক ডাকাতিতে জড়িতরা দুই ধরনের ক্ষুদ্রাস্ত্র ব্যবহার করেছে। তা হলো ৭.৬৫ ও পয়েন্ট টু টু বোরের পিস্তল। এ ছাড়া যে ধরনের বিস্ফোরক তারা ব্যবহার করে, তা বিভিন্ন সময় জেএমবি সদস্যদের আস্তানা থেকে পাওয়া যায়।
ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে গতকালও সকাল থেকে কাঠগড়া বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। কিছু দোকানপাট খুললেও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। এ ছাড়া দোকানে ক্রেতা ছিল না বললেই চলে।
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, বোরহানের পরিবারের আর্থিক
অবস্থা বিবেচনায় তার একটি ভ্যানগাড়িও থাকার কথা নয়। শুনেছি- তার না-কি পাঁচটি গাড়ি
রয়েছে। আলা মোল্লা নামে তার এক মামাও ট্রাকচালক। গ্রামে বোরহান খুব বেশি আসত না।
চিকিৎসা নিয়ে আহতদের
পরিবারের দুশ্চিন্তা :ডাকাতদের প্রতিহত করতে গিয়ে আহতদের চিকিৎসা ব্যয় বহন নিয়ে
দুশ্চিন্তায় অনেকের স্বজনরা। ভ্যানচালক রমজান শেখের মেয়ে রুমা বেগম জানান, তার
বাবার শরীরের একাধিক স্থানে গুলি বিদ্ধ হয়। চিকিৎসার জন্য এনাম মেডিকেল কলেজ
হাসপাতাল থেকে ৮০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। এটা শোনার পর তাদের দুশ্চিন্তায় ঘুম
হারাম। গতকাল এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, আহত ও তাদের স্বজনরা
কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। চিকিৎসাধীন ১৭ জনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নিহতদের অনুদান ও
আহতদের চিকিৎসা ব্যয় মেটাবে কমার্স ব্যাংক :কমার্স ব্যাংকের আশুলিয়ার কাঠগড়া শাখায়
নৃশংস ডাকাতির ঘটনায় নিহত শাখা ব্যবস্থাপক ওয়ালিউল্লাহর পরিবারকে এককালীন পাঁচ লাখ
টাকা ও নিহত অন্য ৬ জনের স্বজনকে এক লাখ টাকা করে অনুদান দেবে ব্যাংক। ব্যাংকের
পরিচালনা পর্ষদের গতকালের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকের নিহত শাখা
ব্যবস্থাপকের পরিবারকে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর একদিনের বেতন প্রদান ও
ব্যবস্থাপকের স্ত্রী মেরি খাতুনকে কমার্স ব্যাংকে অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার হিসেবে
চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আহত যেসব ব্যক্তি এনাম মেডিকেলে
চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাদের প্রত্যেকের যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় ব্যাংক বহন করবে।
তথ্য প্রদানে সহযোগিতার
অনুরোধ : গণপিটুনিতে নিহত ডাকাতের নাম-ঠিকানা নিশ্চিত হতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতায়
ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সহকারী পুলিশ সুপার, সাভার
সার্কেল (০১৭১৩-৩৭৩৩২৫) ও অফিসার-ইনচার্জ, আশুলিয়া থানার (০১৭১৩-৩৭৩৩৩২) নম্বরে
তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানায় পুলিশ।
জামায়াতের বিবৃতি :গতকাল এক বিবৃতিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, 'আশুলিয়ায় ডাকাতির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কেউ জড়িত নয়।'
জামায়াতের বিবৃতি :গতকাল এক বিবৃতিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, 'আশুলিয়ায় ডাকাতির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কেউ জড়িত নয়।'
Tag :
জাতীয়



0 Komentar untuk "পলাতক ডাকাতরা ধরা পড়েনি এখনও - জঙ্গি যোগসূত্রের আরও তথ্য"