হুপিং কাশি
প্রকাশ : ১৪ মার্চ, ২০১৫
‘বর্ডেটেলা
পারটুসিস’ নামের এক জীবাণু ‘হুপিং কাশি’ নামক অতি
সংক্রামক রোগ সৃষ্টি করে। শীত ও গ্রীষ্মের প্রারম্ভে এ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে
দেখা যায়। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়েরা এ ব্যাধিতে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। জীবাণু
সমস্ত দেহে ব্যাপ্তি লাভ করে না, কেবল আল-জিহ্বা আক্রান্ত করে। এর ফলে আল-জিহ্বার
বৃদ্ধি ঘটে।
রোগের
শুরুতে সাধারণ সর্দি-কাশি হয়ে থাকে। এজন্য এর প্রতি কারও বাড়তি সতর্কতা থাকে না।
ফলে রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি পায় এবং দ্রুত সংক্রমিত হতে থাকে। দেহে তাপমাত্রা ১০০
ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। দিন দশেক পর জ্বর হ্রাস পায় কিন্তু তখনই
প্রচণ্ড কাশি আরম্ভ হয়। প্রথম কাশি দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত আল-জিহ্বা
কণ্ঠনালি স্পর্শ করে এবং কাশির উদ্ভব হয়। এভাবে যতই আল-জিহ্বা আঘাতপ্রাপ্ত হয়, ততই
কাশি বেড়ে চলে। একবার কাশি শুরু হলে সহজে থামতে চায় না। রোগের চেয়েও কাশির কারণে
রোগীর নাক-মুখ থেকে পানি ঝরতে আরম্ভ করে। চক্ষু বের হয়ে যেতে চায়, শ্বাস-প্রশ্বাস
নিতে কষ্ট হয়। মুখবর্ণ নীলাভ হয়ে যায়, জিহ্বা বেরিয়ে পড়ে এবং কখনও অন্ত্রে প্যাঁচ
লেগে যেতে পারে।
কাশির
জন্য নাক বা গলা দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে, চোখে রক্ত জমে যেতে পারে, হার্নিয়া দেখা
দিতে পারে। এমনকি মলনালি স্থানচ্যুত হয়ে গুহ্যদ্বার দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে। রোগী
দুর্বল হয়ে পড়ে।
রোগীকে
সুস্থ ছেলেমেয়েদের সঙ্গে মিশতে দেয়া যায় না। কারণ এতে রোগের সংক্রমণ ঘটে। শিশু
যাতে কান্না না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। কারণ এতে কাশি বেড়ে যায়। গায়ে যেন
ঠাণ্ডা না লাগে, গলা সর্বদা গরম কাপড় দ্বারা আবৃত রাখতে হবে। প্রয়োজনবোধে গোসলের
পরিবর্তে গরম পানি দিয়ে শরীর মুছে দেয়া ভালো।
পথ্য
হিসেবে পানি মিশ্রিত দুধ, সাগু, বার্লি ইত্যাদি দিতে হয়। দুপুরে নরম ভাত দেয়া যায়,
তবে পেট ভরে নয়।
এমএ
করিম সিদ্দিকী
সহকারী
অধ্যাপক
হাকীম
সাইদ ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
- See more at:
http://www.jugantor.com/stay-well/2015/03/14/234547#sthash.SCBXuJON.dpuf
Tag :
স্বাস্থ্য



0 Komentar untuk "হুপিং কাশি"