কিডনি সুস্থ রাখা চাই
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৪ মার্চ
২০১৫
বাংলাদেশে প্রতি সাতজনে
একজন কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। এ হিসাবে দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় দুই
কোটি মানুষ কিডনি রোগে ভুগছে। প্রতি বছর এ রোগে ৪০ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। ১০
বছর আগেও এ সংখ্যা ছিল প্রায় এক কোটি। কিডনি বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনি আক্রান্তের বর্তমান
সংখ্যা অব্যাহত থাকলে আগামী ১০ বছরে এ সংখ্যা ২৮ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।
কিডনি বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে প্রতি বছর মার্চ মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার পালন
করা হয় বিশ্ব কিডনি দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল, 'সবার জন্য সুস্থ
কিডনি'।
কিডনি মানুষের দেহের
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। প্রতিদিন ১৮০ লিটার রক্ত আমাদের দুটি কিডনির মাধ্যমে
পরিশোধিত হয়, অর্থাৎ শরীরের কোষ পর্যায়ের বিপাকীয় যে বর্জ্য তৈরি হয় তার পরিশোধন
কিডনির অন্যতম কাজ। কিন্তু এ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের সুস্থতা রক্ষার ক্ষেত্রে আমরা
অনেকটাই উদসীন। তার জন্য বড় ধরনের খেসারত দিতে হতে পারে আপনাকে। এবার তবে জেনে নিন
কিডনি সুস্থ রাখার নিয়মগুলো।
কিডনি যেভাবে সুস্থ
রাখবেন_
§ ডায়াবেটিস ও উচ্চ
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থেকে যে কোনো সময় কিডনি আক্রান্ত
হতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে বা কেউ যদি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী
প্রেসারের ওষুধ সেবন না করে থাকেন, সেক্ষেত্রে তার আকস্মিক কিডনি রোগে আক্রান্তের
আশঙ্কা বহুগুণে বেড়ে যায়।
§ বিনা কারণে এনএসএআইডি
গোত্রের ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করবেন না। বিভিন্ন ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ চিকিৎসকের
পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করলে কিডনি রোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
§ পরিমিত পরিমাণে (ছয়-আট
গ্গ্নাস বা দেড় থেকে দুই লিটার) পানি পান করুন। নজর রাখতে হবে, শরীরে পানির ঘাটতি
যেন দেখা না দেয়। আবার বেশি বেশি পানি খেলে কিডনি ভালো থাকবে, এমন কথা ঠিক নয়।
শীতকালে পানির প্রয়োজন কম হলেও গরমের সময় অধিক পরিমাণে পানি গ্রহণ করতে হবে।
§ শিশুদের গলাব্যথা
(টনসিলাইটিস) খোস-পাঁচড়া বা স্ক্যাবিস হলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। এসব
রোগের জটিলতায় কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
§ ডায়রিয়া হলে দ্রুত
চিকিৎসা নিন। কেননা সঠিকভাবে ডায়রিয়ার চিকিৎসা না হলে হঠাৎ কিডনি বিকল হয়ে যেতে
পারে।
§ পরিবারে কিডনি রোগের
ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করা উচিত।
§ হাত-পা ফুলে গেলে,
প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত গেলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন
হতে হবে। কেননা এসব সমস্যা কিডনি রোগের লক্ষণ প্রকাশ করে।
§ ভেজাল খাবার (রঞ্জক
পদার্থ, ফর্মালিন), ভেজাল ওষুধ (ইথিলিন গ্গ্নাইকল, অপরিশুদ্ধ হার্বাল ওষুধ) আপনার
কিডনিকে নীরবে বিকল করে দিতে পারে।
§ ধূমপান পরিহার করুন।
ধূমপানের কারণে দেহের অন্যান্য অঙ্গের মতো কিডনিও আক্রান্ত হতে পারে।
Tag :
স্বাস্থ্য



0 Komentar untuk "কিডনি সুস্থ রাখা চাই"